তথ্যপঞ্জি

প্রবল বৃষ্টিপাত সতর্কতা পরিমাপক এবং নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার বিষয়ে কিছু পরামর্শ

(১) সতর্কতার মাত্রা

এনএইচকে দুর্যোগ প্রশমন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। জাপান খুব শীঘ্রই বর্ষা এবং টাইফুনের মৌসুমে প্রবেশ করবে। প্রবল বৃষ্টিপাতের আশংকা থাকলে জাপানের আবহাওয়া এজেন্সি সতর্কতা জারি করার পাশাপাশি পরামর্শ প্রদান করে থাকে এবং স্থানীয় সরকার লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। ২০১৯ সালে ভারী বর্ষণ, বন্যা এবং ভূমিধ্বসের সময় নতুন একটি পাঁচ মাত্রার সতর্কতা পরিমাপকের ব্যবহার শুরু করে জাপান। কখন নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হবে তা সহজে যাতে স্থানীয় অধিবাসীরা বুঝতে পারেন সেই লক্ষ্যেই এই পরিমাপকের প্রবর্তন করা হয়। ২০২১ সালের মে মাসে এটি সংশোধন করে নেয়া হয়েছে।

ইংরেজি, চীনা এবং ভিয়েতনামির মত বিদেশি ভাষাতেও আবহাওয়া এজেন্সি তথ্য প্রদান করে থাকে।

আমাদের সর্বশেষ এই ধারাবাহিকে বিভিন্ন সতর্কতার মাত্রা বর্ণনা করা হবে এবং আশ্রয়স্থানে সরে যাওয়ার সময় কোন বিষয়গুলোর উপর নজর দিতে হবে সেই সংক্রান্ত পরামর্শ প্রদান করা হবে। এটি ধারাবাহিকের প্রথম পর্ব। এর পরের পর্বগুলোতে আমরা সতর্কতার প্রতিটি মাত্রার জন্য কী ধরনের বিপদের মোকাবিলা করতে হতে পারে এবং চিহ্নিত এলাকাগুলোতে বসবাসকারী লোকজনের জন্য কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ সুপারিশ করে থাকে তার উপর আলোকপাত করব।

এই তথ্যগুলো মে মাসের ১৯ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।



(২) মাত্রা-এক এবং মাত্রা-দুই

উত্তর-১৫: এনএইচকে দুর্যোগ প্রশমন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। আমাদের চলতি ধারাবাহিকে প্রবল বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভূমিধ্বসের ক্ষেত্রে জাপানে যে পাঁচ মাত্রার সতর্কতা জারি করার ব্যবস্থা আছে, তার ওপর আলোকপাত করা হচ্ছে। এর দ্বিতীয় পর্বে প্রথম দুটি মাত্রা সম্পর্কে এবং সতর্কতা জারি করা হলে কী করতে হবে তা নিয়ে আলোচনা করবো।

যখন কোনো জায়গায় প্রথম মাত্রার সতর্কতা জারি করা হয় তখন সেই এলাকার লোকজনকে আবহাওয়ার সর্বসাম্প্রতিক খবরাখবরের উপর নজর রাখতে উপদেশ দেওয়া হয়। আবহাওয়া এজেন্সির ওয়েবসাইটে সম্ভাব্য সতর্কতা এবং উপদেশ-পরামর্শ সম্পর্কিত খবর প্রকাশ করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো লোকজনকে জানিয়ে রাখা যে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আবহাওয়া সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করা হতে পারে। প্রথম মাত্রার সতর্কতার ক্ষেত্রে এজেন্সির ওয়েবসাইটের মত বিভিন্ন মাধ্যমে হালনাগাদ করা আবহাওয়ার খবরের উপর নজর রাখতে হবে।

দ্বিতীয় মাত্রার সতর্কতা জারি করা হলে লোকজনকে উপদেশ দেওয়া হয় নিরাপত্তার জন্য তারা কোথায় যেতে পারে এবং কীভাবে যাবে তা জেনে রাখতে।
এরই মধ্যে আবহাওয়া এজেন্সি প্রবল বৃষ্টিপাত ও বন্যা সম্পর্কে খবর ও উপদেশ পরামর্শ প্রকাশ করতে থাকে। চিহ্নিত জায়গায় যাদের বসবাস তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে বলা হয়। বলা হয় ঝুঁকিপূর্ণ জায়গার ম্যাপ দেখে জেনে রাখুন আপনার বসবাসের জায়গায় কী ধরনের দুর্যোগ আঘাত হানতে পারে। জেনে রাখুন আপনার বাড়ির সবচেয়ে কাছে কোথায় আশ্রয় কেন্দ্র আছে এবং কোন পথে সেখানে পৌঁছাতে হয়।

এই তথ্যগুলো মে মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।



(৩) মাত্রা-তিন এবং মাত্রা-চার

এনএইচকে দুর্যোগ প্রশমন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। এবারে রয়েছে প্রবল বৃষ্টিপাত, বন্যা এবং ভূমিধ্বসের জন্য জাপানের পাঁচ মাত্রার সতর্কতা পরিমাপক নিয়ে আমাদের ধারাবাহিকের তৃতীয় পর্ব। এতে আজ আমরা তৃতীয় এবং চতুর্থ মাত্রার সতর্কতার উপর আলোকপাত করব।

তৃতীয় মাত্রায়, বয়োবৃদ্ধ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধিতা থাকা লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া শুরুর পরামর্শ দেয়া হয়।
স্থানীয় সরকারগুলো প্রবীণ এবং অন্যান্য বাসিন্দাদের জন্য “নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সতর্কতা” জারি করে। এই পরিস্থিতিতে জাপানের আবহাওয়া এজেন্সি ভারি বৃষ্টিপাত এবং বন্যা নিয়ে একটি সতর্কতা জারি করে থাকতে পারে। কর্তৃপক্ষসমূহের নদীর পানি ফুলে ওঠা নিয়ে একটি সতর্কতাও জারি করার সম্ভাবনা রয়েছে। এসময় বয়োজ্যেষ্ঠ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধিতা থাকা লোকজনকে সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করা উচিত। আর অন্যান্য লোকজনের উচিত হবে নিরাপদ আশ্রয়স্থল যাচাই করে নেয়া এবং তারা নিজেদের সাথে যে জিনিসগুলো নিতে চান তা ব্যাগে গুছিয়ে নিতে শুরু করা। আর যদি নিজেরা বিপদে আছেন বলে মনে করেন, তাহলে তাদের স্বেচ্ছায় নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়া উচিত।

চার মাত্রার সতর্কতা হচ্ছে বিপজ্জনক এলাকাগুলোতে অবস্থানরত সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য একটি আদেশ। স্থানীয় সরকারগুলো এই আদেশ জারি করে থাকে। এটি এমন একটি পরিস্থিতি যখন ভারী বৃষ্টিপাত ভূমিধ্বসের ঝুঁকি বৃদ্ধি করেছে। কর্তৃপক্ষসমূহের ভূমিধ্বসের পাশাপাশি পানির স্তর বৃদ্ধি পেতে থাকা নদী থেকে বন্যার ঝুঁকি নিয়েও সতর্কতা জারি করার সম্ভাবনা রয়েছে। শুধুমাত্র বয়োজ্যেষ্ঠরাই নন, বিপজ্জনক স্থানে অবস্থান করা সকল ব্যক্তিরই নিজেদের সুরক্ষার জন্য নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া উচিত। এক্ষেত্রে, একটি আশ্রয় কেন্দ্রই কেবল লোকজনের আশ্রয় নেয়ার জন্য একমাত্র নিরাপদ স্থান নয়। নিজের এলাকার ভেতরে দৃঢ়ভাবে নির্মিত একটি ভবনও নিরাপত্তা প্রদান করতে পারে। স্থানীয় সরকারের প্রস্তুত করা ঝুঁকি মানচিত্র ব্যবহার করে লোকজনের উচিত হবে আগে থেকেই এসব স্থানের ঠিকানা দেখে রাখা।

এই তথ্যগুলো মে মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।



(৪) মাত্রা-পাঁচ’এর জন্য অপেক্ষা করবেন না।

এনএইচকে দুর্যোগ প্রশমন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। এবারে রয়েছে প্রবল বৃষ্টিপাত, বন্যা এবং ভূমিধ্বসের জন্য জাপানের পাঁচ মাত্রার সতর্কতা পরিমাপক নিয়ে আমাদের ধারাবাহিকের চতুর্থ পর্ব। এবারে আমরা পাঁচ মাত্রা অর্থাৎ চূডান্ত সতর্কতার উপর আলোকপাত করব।

পাঁচ মাত্রার সতর্কতা হচ্ছে নিজেদের জীবন বাঁচানোয় প্রয়োজনীয় যেকোন কর্মপন্থা গ্রহণের জন্য অধিবাসীদের প্রতি একটি জরুরি অনুরোধ। স্থানীয় সরকারগুলো অবিলম্বে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য লোকজনের প্রতি নির্দেশ দিয়ে থাকে। এটি অনেকটা এরকম যে একটি দুর্যোগ আসন্ন বা ইতোমধ্যে এসে পড়েছে। কর্তৃপক্ষগুলো সম্ভবত যেসব স্থানে নদীগুলোতে ইতোমধ্যে পানি তীর উপচে পড়েছে সেসব স্থানের তথ্য প্রকাশ করতে শুরু করে দিয়েছে। আবহাওয়া এজেন্সি হয়তো সর্বোচ্চ জরুরি সতর্কতা জারি করে ফেলেছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়ার জন্য সময়টা হয়তো অনেকটাই দেরি হয়ে গেছে।

আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, স্থানীয় সরকারগুলোর কাছ থেকে “নিরাপত্তা নিশ্চিত” করার নির্দেশ হয়তো সময় মত আসবে না। একটা ঝুঁকি কিন্তু থেকেই যাচ্ছে যে, এই পরিস্থিতির অধীনে আপনি হয়তো আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবেন না। যখন চার-মাত্রার সতর্কতা জারি করা হবে তখনই সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে হবে – পাঁচ-মাত্রার জন্য অপেক্ষা করা যাবে না। পাঁচ-মাত্রার সতর্কতাকে অবশ্যই যেসব লোকজন তখনও আশ্রয় নিতে ব্যর্থ হয়েছেন তাদের জন্য নিজেদের জীবন রক্ষার দ্বিতীয়-সেরা কর্মপন্থা গ্রহণের আহ্বান বলে ধরে নিতে হবে। এটা কখনই ধরে নেবেন না যে চূড়ান্ত-পর্যায়ের সতর্কতা তখনও আসেনি বলে এখনও আপনার হাতে সময় আছে। তখনই আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান যখনই অন্যত্র আশ্রয় নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

এই তথ্যগুলো মে মাসের ২৪ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।



(৫) সরে যাওয়া কঠিন হলে কী করতে হবে

এনএইচকে দুর্যোগ প্রশমন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। প্রবল বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভূমিধ্বসের জন্য জাপানের পাঁচ মাত্রার সতর্কতা পরিমাপকের উপর আমাদের ধারাবাহিকের এই পর্বে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার বেলায় জটিলতার মুখে পড়তে হলে কোন ধরনের বিকল্প মানুষের সামনে আছে তার উপর আমরা আলোকপাত করছি।

কয়েক ঘণ্টা ধরে চলতে থাকা ভারী বর্ষণের বেলায় পরিস্থিতি হঠাৎ করে বদলে যেতে পারে। সেরকম অবস্থায় বৃদ্ধ লোকজন এবং শারীরিক ভাবে যারা প্রতিবন্ধী, সেরকম লোকজনকে সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানানো তথ্য ও সেই সাথে সরে যাওয়ার আদেশ হয়তো সময়মত প্রচার করা নাও হতে পারে। আশপাশের এলাকাগুলোতে বন্যার পানি চলে এলে দূরের আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যাওয়া মানুষের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে। যে একটি বিকল্প সেরকম অবস্থায় তারা গ্রহণ করতে পারেন তা হল, কাছের কোন নিরাপদ জায়গা কিংবা ভবনে সরে যাওয়া। বাইরে যাওয়ার ঝুঁকি কেউ নিতে না পারলে তাদের উচিত হবে নিজেদের বাড়ির উপরের তলায় কিংবা ভবনের পাশের উঁচু খাড়া জায়গার মত সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানের উল্টো দিকে সরে যাওয়া।

পাহাড়ের ছোট ও মাঝারি আকারের নদী প্লাবিত হতে পারে। নদী থেকে কতটা দূরে এলাকার অবস্থান এবং নদী থেকে এর উচ্চতার ভিন্নতার উপর নির্ভর করে ক্ষয়ক্ষতির প্রচণ্ডতা ভিন্ন হতে পারে। নদী-তীরের এলাকা কিংবা বন্যা হলে যেসব অঞ্চল গভীর পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে, এরকম কিছু জায়গা সেখানে আছে বাড়িঘর যেখানে ভেঙ্গে পড়া কিংবা ভেসে যাওয়ার মত খুবই উঁচু মাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ। সরকার ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষ সেই সব এলাকাকে এরকম সম্ভাব্য বন্যা প্লাবিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে, ভবন যেখানে ধ্বসে পড়তে পারে। সেরকম চিহ্নিত এলাকাগুলোতে ভবনের কেবল দ্বিতীয় তলায় সরে যাওয়া জীবন রক্ষা করার মত যথেষ্ট নাও হতে পারে। লোকজনকে তাই নিরাপদ জায়গা খুঁজে দেখার উপদেশ দেয়া হচ্ছে।

এই তথ্যগুলো জুন মাসের ১ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।



(৬) “নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুইচ” উন্নয়ন

এনএইচকে দুর্যোগ প্রশমন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। প্রবল বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভূমিধ্বসের জন্য জাপানের পাঁচ মাত্রার সতর্কতা পরিমাপকের উপর আমাদের ধারাবাহিকের এই পর্বে লোকজনকে তাদের নিজস্ব “নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার সুইচ” উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার উপর আমরা আলোকপাত করছি।

দুর্যোগ মোকাবিলা করা সংস্থাগুলো এবং স্থানীয় সরকার বিভিন্ন ধরনের সতর্কতা জারি করে থাকে। আসন্ন দুর্যোগের সময় স্থানীয় কর্মকর্তাদের পক্ষে প্রতিটি ব্যক্তিকে আলাদা আলাদা করে সাহায্য করা সম্ভব হয় না। একারণে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে লোকজন তাদের নিজস্ব “নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়ার সুইচ” তৈরি করুক যার অর্থ হল বিষয়টি নিয়ে তারা আগে থেকে সবধরনের চিন্তাভাবনা করে রাখবে এবং অন্যত্র সরে যাওয়ার লক্ষ্যে ঠিক কখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে সেটাও তাদের জানা থাকবে।

তাদের পরিমন্ডলের মধ্যে দুর্যোগ ঠিক কী ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি করছে লোকজন সে বিষয়ের সাথেও নিজেদেরকে পরিচিত করে তুলবে এবং দুর্যোগের ঝুঁকি যখন খুব বেশি সেই সময় দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে হয় কিভাবে তা জানবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাওয়ার আগে লোকজনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। ভারী বর্ষণের সময় নদী ফুলে ফেঁপে উঠলে গাড়ি খুব সহজেই ভেসে যেতে পারে। স্থানীয় পৌরসভা কর্তৃপক্ষ যদি নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে থাকে তবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যারা বসবাস করছেন তাদের উচিত অবিলম্বে সরে যেতে শুরু করা।

বয়স্ক মানুষ বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এমন লোকজন যাদের চলাফেরা করতে অনেক সময়ের প্রয়োজন তাদের উচিত তিন মাত্রার সতর্কতা জারি করার সাথে সাথেই নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে সরে যেতে শুরু করা।

আমাদের পরবর্তী পর্বে আশ্রয়স্থলে সরে যাওয়ার সময় কোন কোন বিষয়ে সতর্ক হতে হবে তার উপর আমরা নজর দেব।

এই তথ্যগুলো জুন মাসের ২ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।



(৭) পায়ে হেঁটে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া

এনএইচকে দুর্যোগ প্রশমন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। প্রবল বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভূমিধ্বসের জন্য জাপানের পাঁচ মাত্রার সতর্কতা পরিমাপক নিয়ে আমাদের ধারাবাহিকের এই পর্বে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় অনুসরণীয় কয়েকটি সতর্কতামূলক সুনির্দিষ্ট বিষয়ের উল্লেখ করবো।
যদি পায়ে হেঁটে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয়, সেক্ষেত্রে অনুসরণীয় কয়েকটি উপদেশ।

এমন পোশাক পরা উচিত যাতে চলতে ফিরতে অসুবিধা না হয়। যেমন, ফুলপ্যান্ট। আঘাত এড়ানোর জন্য বেছে নিন লম্বা-হাতা পোশাক ও লম্বা প্যান্ট, এমনকি গরমকালেও। জুতোর ক্ষেত্রে বেছে নেওয়া উচিত আগে ব্যবহার করা আরামদায়ক স্নিকার। বুট পরতে সুপারিশ করা হয় না, কারণ ভিজে গেলে বুট ভারী হয়ে যায়, আর তাতে প্রত্যেকটি পদক্ষেপও হয়ে ওঠে ভারী। এছাড়া হাওয়াই চপ্পল পরা উচিত না, কারণ এই চটি সহজেই পা থেকে খুলে যেতে পারে।

জরুরি অবস্থায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় সঙ্গে নেওয়ার জন্য একটা ব্যাগ আগেভাগেই প্রস্তুত করে রাখুন। খুব প্রয়োজনের ন্যুনতম জিনিস ওতে নিন যাতে ব্যাগ হাল্কা থাকে এবং বহন করা সহজ হয়। হাঁটতে গিয়ে পড়ে না যাওয়ার জন্য এবং হাত দুটো যাতে খালি থাকে তার জন্য ব্যাগ পিঠে বহন করতে সুপারিশ করা হয়। নিজেকে নিরাপদ রাখার জন্য ছাতার বদলে রেইনকোট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।

এই তথ্যগুলো জুন মাসের ৩ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রবল বৃষ্টিপাত সতর্কতা পরিমাপক এবং নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার বিষয়ে কিছু পরামর্শ



(৮) একা পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকুন

এনএইচকে দুর্যোগ প্রশমন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। প্রবল বৃষ্টিপাত, বন্যা এবং ভূমিধ্বসের জন্য জাপানের পাঁচ মাত্রার সতর্কতা পরিমাপক বিষয়ক আমাদের চলমান ধারাবাহিকের এই অংশে, আমরা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া সংক্রান্ত কিছু সুনির্দিষ্ট সতর্কতার উপর আলোকপাত করছি।
এই পর্বে পায়ে হেঁটে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া সম্পর্কিত পরামর্শ প্রদান অব্যাহত থাকবে। এবারের বিষয়- “একা পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকুন”।

একা পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকুন এবং নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সময় যতটা সম্ভব দুই বা ততোধিক লোকের সঙ্গে দলবদ্ধভাবে থাকুন। প্লাবিত এলাকা এড়িয়ে চলুন। বন্যার পানি যখন ৫০ সেন্টিমিটার বা হাঁটুর উপরে উঠে যায়, তখন এমনকি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের জন্যও পানির চাপে হাঁটা কঠিন হয়ে পড়ে। আর পানি প্রবাহিত হলে, এমনকি অপেক্ষাকৃত অগভীর পানিতেও একজন ব্যক্তি তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে পারেন এবং ভেসে যেতে পারেন।

যখন একটি সড়ক প্লাবিত হয় তখন ভূমি দেখতে বা এর অবস্থান বুঝতে অসুবিধা হয় বলে কোনো ব্যক্তি সহজেই হোঁচট খেতে পারেন। আবার, কেউ কেউ নাগরিক পরিষেবার একটি খোলা গর্ত, নর্দমা বা খালে পড়ে গিয়েও ভেসে যেতে পারেন।

প্লাবিত এলাকার মধ্য দিয়ে চলাচল করা ছাড়া যখন আপনার কাছে আর কোন উপায় নেই, তখন:
গভীরভাবে প্লাবিত স্থান এবং পানির প্রবাহ এড়িয়ে চলুন।
সম্মুখে এগিয়ে যাওয়া নিরাপদ কিনা তা যাচাই করে দেখতে একটি ছাতা বা একটি লম্বা লাঠি ব্যবহার করুন এবং সতর্কতার সাথে এগিয়ে যান।

এই তথ্যগুলো জুন মাসের ৬ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।



(৯) পালানোর জন্য গাড়ি সবসময় নিরাপদতম উপায় নাও হতে পারে

এনএইচকে দুর্যোগ প্রশমন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। প্রবল বৃষ্টিপাত, বন্যা এবং ভূমিধ্বসের জন্য জাপানের পাঁচ মাত্রার সতর্কতা পরিমাপক বিষয়ক আমাদের এই চলমান ধারাবাহিকে, আমরা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া সংক্রান্ত কিছু সুনির্দিষ্ট সতর্কতার উপর আলোকপাত করছি। এই পর্বে গাড়িতে করে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া সম্পর্কিত পরামর্শ প্রদান করা হবে।

এটা কখনও ধরে নেবেন না যে গাড়িতে করে অন্যত্র সরে যাওয়াটা সবসময় একটি নিরাপদ উপায়। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসের টাইফুন হাগিবিসের সময়, বাড়ির বাইরে মারা যাওয়া লোকের মধ্যে ৪০ শতাংশ তাদের জীবন হারিয়েছেন গাড়িতে করে পালানোর সময়। গাড়ি চালানোর সময় কারো কারো গাড়ি বন্যায় অন্যত্র ভেসে গেছে। অন্য কেউ কেউ তলিয়ে যাওয়া রাস্তার কোন গর্তের মধ্যে গাড়ি’সহ পড়ে গিয়ে মারা গেছেন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে, লোকজন যেন তড়িঘড়ি বাড়ি ফিরে যাওয়া কিংবা কাজে যাওয়ার চেষ্টা না করেন, এটা ভেবে যে যতক্ষণ একজন গাড়ি ব্যবহার করছেন ততক্ষণ সেটা করাই নিরাপদ বিশেষ করে যখন সেই এলাকা প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত এবং প্রবল বাতাসে ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কারো নদীর তীর বরাবর বা ধানক্ষেতের পাশ দিয়ে গাড়ি চালানো এড়িয়ে যাওয়া উচিত। যখন নদীর পানি উপচে পড়ে বা ধানক্ষেত প্লাবিত হয়, তখন এটা বলাটা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে যে রাস্তা এবং পানির মধ্যকার সীমানা কোথায়। কেউ একজন সহজেই নদী বা ধানক্ষেতের মধ্যে গাড়ি নিয়ে পড়ে যেতে পারেন। কেউ কেউ এর আগের টাইফুন এবং মুষলধারায় বৃষ্টিতে এভাবে মারা গেছেন। এটা নিশ্চিত হয়ে নিন, যে রাস্তা দিয়ে আপনি যাচ্ছেন সেই রাস্তা প্রবল বৃষ্টিপাতেও আপনার জন্য নিরাপদ কিনা এমনকি সে রাস্তা আপনার খুব ভাল চেনা হলেও।

এই তথ্যগুলো জুন মাসের ৭ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।



(১০) বন্যার পানিতে গাড়ি সহজেই ভেসে যেতে পারে

এনএইচকে দুর্যোগ প্রশমন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। প্রবল বৃষ্টিপাত, বন্যা এবং ভূমিধ্বসের জন্য জাপানের পাঁচ মাত্রার সতর্কতা পরিমাপক বিষয়ক আমাদের এই চলমান ধারাবাহিকে, আমরা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া সংক্রান্ত কিছু সুনির্দিষ্ট সতর্কতার উপর আলোকপাত করছি। এই পর্বেও আমরা গাড়িতে করে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখবো এবং বন্যার পানিতে গাড়ি যে সহজেই ভেসে যেতে পারে, সেই বাস্তবতার উপর আলোকপাত করবো।

বন্যায় ডুবে যাওয়া সড়কে গাড়ি চালানো বিপজ্জনক। এমন কি যখন মনে হতে পারে যে বন্যা তেমন মারাত্মক নয়, পানির উচ্চতা তখন আসলেই যথেষ্ট গভীর হতে পারে। এরকম ঝুঁকি রয়েছে যে আপনার গাড়ি হয়তো পানিতে থেমে যেতে পারে কিংবা ভেসে যেতে পারে। এছাড়া সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে রাস্তার উপরের দিক যখন আপনার চোখে পড়বে না, সেরকম অবস্থায় গর্ত, নালা এবং সেচের খালে পড়ে যাওয়ার মত বিপদ অজান্তেই দেখা দিতে পারে।

পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া সড়ক এড়িয়ে চলুন এবং এর বদলে অন্য বিকল্প পথ বেছে নিন। বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া সড়কে আপনাকে যদি গাড়ি চালাতেই হয়, সেরকম অবস্থায় ধীরে গাড়ি চালাবেন এবং সামনের গাড়ির থেকে আপনার গাড়ির পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রাখবেন। কেননা সামনের গাড়ি থেকে আসা পানির ঝাপ্টা আপনার দৃষ্টিপথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে পারে এবং সামনের গাড়ি হঠাৎ থেমে গেলে সেটার সাথে ধাক্কা লেগে যাওয়ার ঝুঁকি আপনার বেলায় থাকবে। এছাড়া দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানোর সময় বড় ঢেউ তৈরি হয়, যা কিনা ইঞ্জিনে প্রবেশ করতে পারে এবং ক্ষতির কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে।

বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া সড়কে পানি প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার গভীর হলে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাবে। পানির উচ্চতা ৫০ সেন্টিমিটার কিংবা আরও বেশি হলে আপনার গাড়ি ভেসে উঠতে এবং দূরে ভেসে যাওয়া শুরু করতে পারে। যাত্রীবাহী গাড়ির বেলায় পানি যেন দরজার চাইতে নিচুতে এবং গাড়ির নিচে অবস্থান করে, তা নিশ্চিত করে নেবেন। তবে এছাড়া আরও যে সতর্কতা বজায় রাখা দরকার তা হল, উপচে পড়া নদী থেকে চলে আসা পানির মত স্রোত বেগবান হলে, এমনকি পানির উচ্চতা কম হওয়া সত্ত্বেও গাড়ি সহজেই ভেসে যেতে পারে।

এই তথ্যগুলো জুন মাসের ৮ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।



(১১) আন্ডারপাসের ভিতর গাড়ি চালানোর সময় সতর্ক থাকুন

এনএইচকে দুর্যোগ প্রশমন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। প্রবল বৃষ্টিপাত, বন্যা এবং ভূমিধ্বসের জন্য জাপানের পাঁচ মাত্রার সতর্কতা পরিমাপক বিষয়ক আমাদের এই চলমান ধারাবাহিকে, আমরা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া সংক্রান্ত কিছু সুনির্দিষ্ট সতর্কতার উপর আলোকপাত করছি। ধারাবাহিকের শেষ পর্বে এবারে আমরা নিরাপদ স্থানে সরে যেতে আন্ডারপাসের ভিতর দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় সতর্ক থাকার জন্য আপনাদের পরামর্শ দেব।

রেলের রাস্তা এবং সাধারণ সড়কের নীচ দিয়ে যাওয়া আন্ডারপাস বন্যার সময়ে বিশেষ ভাবে সুরক্ষিত নয়। চারপাশের এলাকার তুলনায় এই রাস্তা আরও বেশি নিচু হয়, একারণে খুব তাড়াতাড়ি সেখানে বৃষ্টির পানি জমতে থাকে। পানি প্লাবিত হওয়ার বিষয়ে কিছু না জেনেই গাড়ির চালক আন্ডারপাসে প্রবেশের ফলে অতীতে মারাত্মক সব দুর্ঘটনা ঘটেছে। একারণে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সময় আন্ডারপাস এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সম্ভব হলে অন্য কোন রাস্তা বেছে নিন। অন্য কোন বিকল্প না থাকলে খুব আস্তে গাড়ি চালান এবং রাস্তায় যেতে যেতে পানির মাত্রা পরীক্ষা করতে থাকুন।

গাড়ির ভিতর পানি ঢুকে গেলে পানির ফলে সৃষ্ট চাপের কারণে ভিতর থেকে দরজা খোলা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। দরজা আকারে যত বড় হবে চাপের পরিমাণও বেশি হবে, একারণে যেসব গাড়ির দরজাগুলো বড় বা দরজা স্লাইডিং সেইসব গাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে আসা আরও কঠিন।
তাই আমাদের পরামর্শ হবে গাড়িতে এমন ধরনের যন্ত্র রেখে দেবেন যাতে করে সেটা দিয়ে জরুরি অবস্থার সময় জানালা ভাঙা যায়। সেধরনের যন্ত্রপাতি গাড়িতে না থাকলে আপনার বসার আসনের মাথা রাখার স্থানটা খুলে নিন। এর সাথে লাগানো ধাতুর রড দুটোর একটিকে দরজার ফ্রেম এবং কাঁচের মাঝখানে রেখে রডটা সামনের দিকে জোরে টানুন যাতে করে জানালা ভেঙে যায়। প্রচুর পরিমাণ পানি গাড়ির ভিতর ঢুকে গেছে এবং গাড়ির ভিতর ও বাইরের পানির মাত্রা সমান, মনে রাখবেন যে এধরনের খারাপ পরিস্থিতিতেও দরজা খোলা যায়।

এই তথ্যগুলো জুন মাসের ৯ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।


শহরের বন্যা নিয়ে নিরাপত্তা পরামর্শ


(১) বিলম্ব না করে নদীর কাছ থেকে দূরে সরে যান!

এনএইচকে দুর্যোগ প্রশমন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। জাপানে বর্ষাকাল শুরু হতে যাওয়া অবস্থায় বন্যা নিয়ে আমাদের প্রস্তুতির দিকে নতুনভাবে দৃষ্টিপাত করা দরকার। কংক্রিটের ভবন এবং পাকা রাস্তা থাকা শহর এলাকা বৃষ্টিপাতের সময় প্রচুর পরিমাণ পানি শুষে নিতে পারে না। এক ঘণ্টা সময়ে ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার সামর্থ্য নিঃশেষ করে দিতে পারে এবং বন্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে। আমাদের নতুন এ ধারাবাহিকে শহর এলাকার বন্যায় নিজেদের রক্ষা করার উপায় নিয়ে আমরা আলোচনা করছি।

শহরের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী সাধারণত সরু হয় এবং সেই সব নদীর তলদেশ কংক্রিট পাতে ঢাকা থাকে। বৃষ্টি হওয়ার সময় পানির উচ্চতা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার কারণ এটা হয়ে উঠতে পারে।

২০০৮ সালের জুলাই মাসে কোবে শহরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি নদীতে পানির উচ্চতা মাত্র দশ মিনিটে ১৩০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছিল। নদীর তীরে খেলাধুলা করা তিনটি শিশু সহ পাঁচ ব্যক্তি উঁচু স্রোতে ভেসে গিয়ে প্রাণ হারান। মুষলধারার বৃষ্টিপাত ঘণ্টায় ৫০ মিলিমিটারের বেশি হলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নদীর তীর ভেসে যাওয়ার মত ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

নদীর উজানে হওয়া ভারী বৃষ্টিপাত এমন কি ভাটির দিকে খুব বেশি বৃষ্টিপাত না হলেও হঠাৎ করে সেখানে নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধির কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে। ফলে সেরকম অবস্থায় ছোট নদীর থেকে যেন দ্রুত দূরে সরে যেতে পারেন তা নিশ্চিত করে নেবেন।

এই তথ্যগুলো জুন মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।



(২) নিচু এলাকা ও ম্যানহোলের দিকে নজর দিন

এনএইচকে দুর্যোগ প্রশমন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। আমাদের নতুন এই ধারাবাহিকে আমরা শহর এলাকায় বন্যা হওয়ার সময় নিজেকে রক্ষা করার উপায় নিয়ে আলোচনা করছি। চারদিকের অন্যান্য জায়গার চাইতে নিচু এলাকাগুলোতে কোন ধরনের বিপদ সম্পর্কে আপনার সতর্ক থাকা দরকার, এবারে আমরা সেই ব্যাখ্যা দেব।

বৃষ্টিপাতের পরিমাণ যখন পানি নিষ্কাশনের সামর্থ্য অতিক্রম করে যায়, সেরকম অবস্থায় পয়ঃনিষ্কাশন নালা থেকে তীব্র বেগে বের হয়ে আসা বৃষ্টির পানি ম্যানহোলের ঢাকনা সরিয়ে দিতে পারে। নর্দমায় প্রবাহিত পানির উচ্চতাও বৃদ্ধি পেতে পারে। চারদিকের ভূমির চাইতে নিচু জায়গায় কিংবা সরু গলিতে পানি সাধারণত জমা হয়। কখনও আবার পানি সেখানে প্রায় নদীর মত তীব্র বেগে প্রবাহিত হয়, যা কিনা আপনাকে ফেলে দিতে পারে। চারপাশে সেরকম জায়গা থেকে গেলে যতটা সম্ভব সেদিক দিয়ে হাঁটা চলা করা আপনাকে এড়িয়ে যেতে হবে। যাওয়ার একান্ত প্রয়োজন হলে নিশ্চিত করে নেবেন যেন দুই কিংবা বেশি লোকজনের সঙ্গে দলবদ্ধ হয়ে আপনি যাচ্ছেন। হেঁটে যাওয়ার সময় ছাতা কিংবা লাঠি দিয়ে ভূমির অবস্থা যাচাই করে দেখা নিশ্চিত করে নিন এবং ধীর গতিতে হাঁটুন।

এছাড়া, শহরের কিছু আবাসিক এলাকা যে পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে তা নিয়ে সতর্ক থাকবেন। সেরকম জায়গায় সহজেই ভূমিধ্বস হতে পারে বলে যে সুপারিশ আমরা করবো তা হলো, নিজের পাড়ার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানচিত্র আপনি যেন পরীক্ষা করে দেখেন।

এই তথ্যগুলো জুন মাসের ১৬ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।



(৩) ভূগর্ভস্থ তলায় থাকবেন না, উপরে উঠে আসুন

এনএইচকে দুর্যোগ প্রশমন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। এনএইচকে দুর্যোগ প্রশমন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। চলতি ধারাবাহিকে আমরা শহরাঞ্চলে বন্যা দেখা দিলে কীভাবে নিজেদের জীবন রক্ষা করবো, তার উপায় নিয়ে আলোচনা করছি। এই পর্বে যে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শটি দেওয়া হচ্ছে তা হলো, যদি বেসমেন্ট বা ভূগর্ভস্থ তলায় থাকেন, উঠে আসুন উপরে।

মুষলধারায় বৃষ্টি হলে আকস্মিক বিপুল পরিমাণ জলের প্রবাহ ধেয়ে যেতে পারে ভবন বা অন্য কোনো স্থাপনার ভূগর্ভস্থ তলা অথবা ভূগর্ভস্থ বিপণিবিতান বা পার্কিংয়ের জায়গায়। মাটির নিচের তলায় অবস্থান করলে, উপরে কী হচ্ছে তা টের পাওয়া যায় না। এর অর্থ, প্রবল বৃষ্টি বা বন্যা হলে, সময়মত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার ব্যাপারে দেরি হয়ে যেতে পারে। ভূগর্ভস্থ তলায় পানি ঢুকতে আরম্ভ করলে, তখন স্রোতের বিপরীতে নিচ থেকে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে আসা খুব কঠিন। বন্যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে এলিভেটর বন্ধ থাকতে পারে। এছাড়া অন্ধকারে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ভূগর্ভস্থ তলা থেকে বেরিয়ে আসার দরজার বাইরে যদি ৫০ সেন্টিমিটার গভীর জল জমা হয়, দরজার উপর এই জলের মোট চাপ ১০০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। দরজার বাইরে জমা পানির গভীরতা ১০ সেন্টিমিটারের আশেপাশে পৌঁছালেই শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের পক্ষে সেই দরজা খোলা বেশ কঠিন। দরজার বাইরে পানির গভীরতা যদি ৩০ সেন্টিমিটার মতো হয়ে যায়, তখন এমনকি একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরও সেই দরজা টেনে খুলতে বেশ বেগ পেতে হয়।

ভারী বৃষ্টি হলে লোকজনকে বেসমেন্ট বা ভূগর্ভস্থ অন্যান্য স্থাপনা থেকে সরে আসার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। আর যদি কোনো কারণে সরে আসা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে সর্বসাম্প্রতিক আবহাওয়া সংবাদ এবং স্থানীয় সরকারের সর্তকবাণীর ওপর অনবরত নজর রাখতে হবে এবং যদি বন্যার আশংকা দেখা দেয়, সঙ্গে সঙ্গে উপরে উঠে আসতে হবে।

এই তথ্যগুলো জুন মাসের ১৭ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।


ভূমিধ্বস- পূর্বসতর্কতা এবং নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশিকা


(১) ভূমিধ্বসের সতর্কতা জারির পর দ্রুত সরে যাওয়া উচিত

এনএইচকে দুর্যোগ প্রশমন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। একবার ভূমিধ্বস শুরু হয়ে গেলে কারো পক্ষে আর সরে যাওয়া সম্ভব হবে না। এক্ষেত্রে, লোকজনের জীবন রক্ষার সর্বোত্তম উপায় হলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভূমিধ্বসের হুমকি রয়েছে, এরকম এলাকা ত্যাগ করা। নতুন এই ধারাবাহিকে, আমরা ভূমিধ্বস এবং নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবেশন করবো।  
 
যখন একটি কাদাধ্বসের বিপদ বেড়ে যায়, তখন আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট জেলা সরকার যৌথভাবে একটি সতর্কতা জারি করে। কাদাধ্বসের হুমকির সম্মুখীন এলাকাগুলোর আশেপাশের বাসিন্দাদের এই সতর্কতা জারি হওয়ার পরে স্থানীয় সরকারের জানানো তথ্যসমূহকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করার পাশাপাশি সরে যাওয়ার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
 
অন্যদিকে, এমনকি কর্তৃপক্ষগুলো সতর্কতামূলক সাবধানবাণী বা সরে যাওয়ার জন্য কোনো আহ্বান না জানানো সত্ত্বেও কোথাও কোথাও আচমকা ভূমিধ্বস হতে পারে।
 
সেকারণে কাদাধ্বসের জন্য সতর্কতার কিছু ইঙ্গিত নিচে উল্লেখ করা হলো:
পাহাড়ি ঢাল থেকে ছোট ছোট পাথর গড়িয়ে পড়া।
একটি ঢালের উপর ফাটল দেখা দেয়া।
ঢাল থেকে হঠাৎ পানি নির্গত হওয়া।
নদীগুলো হঠাৎ শুকিয়ে যাওয়া।
পাহাড়ের কম্পন বা অস্বাভাবিক জোরালো শব্দ
 
এসব অস্বাভাবিক ঘটনা এই আভাস দেয় যে একটি কাদাধ্বস আসন্ন এবং এলাকাটি বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। তাই, লোকজনকে অবিলম্বে সেই খাঁড়া এলাকা বা ঢাল ত্যাগ করে অন্যত্র সরে যেতে হবে এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পরিস্থিতি যাচাই করার জন্য তাদের কোনভাবেই এই ধরনের এলাকায় যাওয়া উচিত হবে না কারণ এটি খুবই বিপজ্জনক।
 
এই তথ্যগুলো জুন মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।



(২) দ্বিতীয় তলায় আশ্রয় নেয়া অবশ্যই একটি শেষ-আশ্রয় পদক্ষেপ

এনএইচকে দুর্যোগ প্রশমন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। একবার ভূমিধ্বস শুরু হয়ে গেলে কারো পক্ষে আর সরে যাওয়া সম্ভব হবে না। এক্ষেত্রে, লোকজনের জীবন রক্ষার সর্বোত্তম উপায় হলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভূমিধ্বসের হুমকি থাকা এলাকা ত্যাগ করা। এই ধারাবাহিকে, আমরা ভূমিধ্বস এবং নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবেশন করছি।

যখন মনে হবে যে সেই এলাকার স্বীকৃত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে যাওয়া খুবই বিপজ্জনক, তখন ভবনের দ্বিতীয় বা তার উপরের তলা, যেগুলো উঁচু খাড়া পাহাড় বা ঢালের থেকে সবচেয়ে দূরে, সেখানে সরে যাওয়াটা একটি শেষ-আশ্রয় পদক্ষেপ হিসেবে লোকজনের জীবন বাঁচাতে পারে।

নিরাপদ ভবন এবং স্থানে পরিস্থিতির এই পর্যায় পর্যন্ত অবনতি হওয়ার আগেই লোকজনের সরে যাওয়া হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

লোকজনের একটি হ্যাজার্ড ম্যাপ বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানচিত্র পরীক্ষা করে দেখা উচিত এবং পৌরসভা কর্তৃপক্ষগুলোর প্রকাশ করা ভূমিধ্বস সম্পর্কিত সতর্কতা এবং অন্যত্র আশ্রয় নেয়ার তথ্যের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার পরিস্থিতির উপরও মনোযোগ দেয়া উচিত।

উঁচু খাড়া পাহাড়, পাহাড়ি ঢাল বা নদীর কাছাকাছি যারা রয়েছেন, তাদের প্রবল বর্ষণের পূর্বাভাস থাকলে অন্যত্র সরে যাওয়ার কথা বিবেচনা করা উচিত।

২০১৮ সালে পশ্চিম জাপানে আঘাত হানা মুষলধারের বৃষ্টির সময়ে, ভূমিধ্বসের মাধ্যমে মৃত্যুর খবর জানানো এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ ভূমিধ্বস সতর্কতা এলাকা বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ইতোমধ্যেই স্বীকৃতি দেয়া হয়েছিল।

পাহাড় বা ঢালের কাছের এলাকাই কেবল নয়, বরং এইসব এলাকা থেকে অপেক্ষাকৃত দূরের এলাকাকেও ভূমিধ্বস সতর্কতা এলাকা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। তাই, ভূমিধ্বসের ঝুঁকি আছে কিনা তা খুঁজে দেখার সময়, লোকজনের একটি হ্যাজার্ড ম্যাপ এবং অন্যান্য তথ্য দেখে নেয়া উচিত।

এই তথ্যগুলো জুন মাসের ২১ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।